তেহরানে গণগ্রেপ্তার ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: নিহত ৬৫, আটক ২৩০০, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করছে সরকার?

ডেস্ক রিপোর্টঃ
 ছবি:
ছবি:

টানা দুই সপ্তাহের গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন বা দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ (Mohareb) হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের ইসলামী দণ্ডবিধি অনুযায়ী এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

কী আছে ইরানের আইনে? ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেবা’ বা ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।

  • অনুচ্ছেদ ১৮৬: কোনো গোষ্ঠী যদি সশস্ত্র বিদ্রোহ করে, তবে যারা জেনে-বুঝে তাদের সহায়তা করবে, তারাও ‘মোহারেবা’র দোষে দুষ্ট হবে—এমনকি সরাসরি অস্ত্র না ধরলেও।

  • অনুচ্ছেদ ১৯০: এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ৪টি পথ খোলা রাখা হয়েছে— ১. মৃত্যুদণ্ড। ২. ফাঁসি। ৩. ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা। ৪. স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

সরকারের কঠোর বার্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় ছাড়াই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”

হতাহত ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ এবং টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের নেপথ্যে কী? গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর রেকর্ড দরপতন ঘটে। খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের দাম ১৪ লাখ রিয়ালে পৌঁছে গেলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শুরুতে এটি অর্থনৈতিক বিক্ষোভ হলেও এখন তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

যুবরাজের আহ্বান এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি জনগণকে শনি ও রবিবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক ‘সিংহ-সূর্য’ চিহ্নযুক্ত পতাকা বহন করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যা বর্তমান সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত