কক্সবাজারের মামুনের শতকোটি টাকার প্রতারণা: সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগীরা

সহযাত্রী চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেস্ক:
প্রতারক মামুন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতারক মামুন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার কক্সবাজারের রামুতে ‘আই ই চ্যারিটি’ নামক একটি ভুয়া সংস্থার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩০) নামের এক যুবক। কুয়েতি সংস্থার চেয়ারম্যান সেজে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ঘর করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভাবী যুবক থেকে যেভাবে ‘প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মামুন মাত্র দু-বছর আগেও অভাব-অনটনে দিন কাটাতেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকার ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরির সুবাদে গড়ে তোলেন একটি বড় প্রতারক সিন্ডিকেট। নিজ গ্রামের রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে মাদ্রাসার শিক্ষক পর্যন্ত তার এই সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। সহযোগীদের তালিকায় উঠে এসেছে মাওলানা হামিদ, এরশাদ মিস্ত্রি, খালেক মিস্ত্রি, আব্দুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার কায়সারের মতো ব্যক্তিদের নাম।

প্রতারণার অভিনব কৌশল: ‘১০টির টাকা নিয়ে ২টির কাজ’

মামুনের প্রতারণার ধরণ ছিল সুপরিকল্পিত। তিনি প্রথমে কোনো একটি এলাকায় ১০টি কাজের অর্ডার নিতেন। সবার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে ২টির কাজ শুরু করতেন। চলমান সেই কাজ দেখিয়ে আরও ৫০ জনের কাছ থেকে টাকা নিতেন। এভাবে চেইন সিস্টেমে সারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরেন তিনি।

ইমাম নিয়োগ ও স্বাবলম্বী প্রজেক্টের নামে লুটপাট

শুধুমাত্র নির্মাণ কাজ নয়, কুয়েতে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের ভুয়া পরীক্ষা ও পত্রিকায় ফলাফল প্রকাশের নাটক সাজিয়ে জনপ্রতি ২-৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন মামুন। এছাড়া ‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট’-এর নামে সেলাই মেশিন ও অটো রিকশা দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করে আরও কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপট ও অর্থ পাচার

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন মামুন। গত নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান। কেউ তার কাছে কোন তথ্য জানতে চাইলে তাকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হতো।

বর্তমানে জানা গেছে, আত্মসাৎকৃত টাকার একটি বড় অংশ দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন তিনি এবং তার ছোট ভাই সেখানে সেই ব্যবসা দেখাশোনা করছেন।

বর্তমানে পলাতক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মামুন আত্মগোপনে চলে যান। মাঝে একবার তার সকল অপকর্মের অন্যতম সহযোগী তার স্ত্রী গ্রেফতার হলেও জামিন নিয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে মূল প্রতারক তার স্বামী মামুনের সাথে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মামুন ঢাকা থেকেই সবকিছু মনিটরিং করছেন এবং তার পরিবার তাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ

প্রতারণার শিকার শত শত পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অতি দ্রুত মামুনকে গ্রেফতার করে তাদের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত