চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ফল ঘোষণার পর সংঘাত, পুলিশি নজরদারি জোরদার

সহযাত্রী অনলাইন ডেস্ক :
সহিংসতায় ভাঙচুর করা ঘর ছবি: সংগৃহীত
সহিংসতায় ভাঙচুর করা ঘর ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সহিংসতা যেন থামছেই না। উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নজুড়ে টানা কয়েক দিন ধরে হামলা, মারধর, দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ধারাবাহিক হামলার চিত্র রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের বকুণ্ডিয়া গ্রামে একটি হিন্দু পল্লীতে দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানায়, সকালে একদল ব্যক্তি এলাকায় ঢুকে বাড়িঘরে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রায়পুর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে:

  • রায়পুর বাজার: সকাল ৮টার দিকে ফল ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান ও মুদি ব্যবসায়ী ইন্তাজ আলীকে মারধর করে তাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই দিন বিকেলে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে ব্যবসা বন্ধের এবং মর্তুজা নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

  • হাসাদহ ইউনিয়ন: সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সুটিয়া স্কুল মাঠে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

  • প্রেসক্লাব দখলচেষ্টা: বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেনসহ পাঁচজন আহত হন।

এছাড়া আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের দুই স্থানে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। জীবননগর পৌর এলাকার নতুন তেতুলিয়া ও বাঁকা ইউনিয়নেও পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য জাহিমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারের দুই সদস্যকে মারধর করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, “প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির রুহুল আমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর সাথে। ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সংযত আচরণই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত