ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী সরু ভূখণ্ড ‘চিকেন্স নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এ মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে রেলপথ বসানোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে ভারত। অন্যদিকে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়েও রেল ও সড়ক চলাচলের উপযোগী সুদীর্ঘ এক সুড়ঙ্গপথের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার।
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চিকেন্স নেকে ‘অদৃশ্যমান রেলপথ’ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি শহর হয়ে বাগডোগরা ও রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এই রেলপথ বসানো হবে। উত্তর-পূর্ব রেলওয়ের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ১২ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা। এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
এই করিডরটি গড়ে মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও চীন সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। তাই যাত্রী পরিবহনের চেয়ে এই প্রকল্পের সামরিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির নিচে সুরঙ্গ থাকায় এটি হবে ‘সুরক্ষিত এবং অ-দৃশ্যমান’। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেও এই পথে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন অব্যাহত রাখা যাবে।
ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোহপুর থেকে নুমালিগড়ের মধ্যে এই সুড়ঙ্গ দিয়ে ট্রেন ও গাড়ি উভয়ই চলাচল করতে পারবে। এটি হবে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল ও সড়ক সুড়ঙ্গ।
সামরিক কৌশল ও চীন ভীতি ভারতের সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন যদি ভুটান হয়ে শিলিগুড়ি করিডরে আক্রমণ চালায়, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই মাটির নিচে এই সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যাল বলেন, “শত্রু দেশ মিসাইল হামলা চালালেও মোটা কংক্রিটের এই সুড়ঙ্গ দিয়ে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।” এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের নিচের সুড়ঙ্গটি তেজপুর বিমানঘাঁটি ও অরুণাচল প্রদেশের সাথে ভারতের যোগাযোগ দ্রুত ও নিরাপদ করবে।