মালয়েশিয়া থেকে পণ্যবোঝাই কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ‘এমভি সিলয়েড এআরসি’ নামের ওই জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যেতে শুরু করে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থাই নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং জাহাজে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও নাবিকদের অবস্থা জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে ছিল। ফুকেট উপকূলের কাছে পৌঁছালে এটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে আংশিকভাবে ডুবে যায়। উপকূল থেকে প্রায় ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি ডুবতে শুরু করলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাহাজের ক্যাপ্টেন সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিকই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের উদ্ধার করে বর্তমানে ফুকেটের একটি স্থানীয় হোটেলে রাখা হয়েছে। সবাই সুস্থ আছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
সাগরে ভাসছে কনটেইনার ও তেল দুর্ঘটনার সময় জাহাজটি থেকে দুই শতাধিক কনটেইনার সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তেলও পানিতে মিশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি পোর্ট কেলাং থেকে রওনা দিয়েছিল এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এটির চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে কী কারণে জাহাজটি হঠাৎ কাত হয়ে ডুবে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উদ্ধার তৎপরতা ও তদন্ত থাইল্যান্ডের দ্য ন্যাশন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যৌথভাবে জরিপ চালাচ্ছে থাই নৌবাহিনী, ফুকেট দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক পুলিশ, কুসলধাম ফুকেট ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ অফিস-১০। একই সঙ্গে জাহাজটির ভাসমান কনটেইনার উদ্ধার এবং পানিতে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণের কাজও জোরেশোরে শুরু হয়েছে।