ব্যালট পুড়িয়ে ভোট বানচালের ভয়াবহ ছক: অ্যাকশনে ‘হিট স্কোয়াড’

সহযাত্রী ডেস্ক
ব্যালট পুড়িয়ে ভোট বানচালের ভয়াবহ ছক ছবি: সংগৃহীত
ব্যালট পুড়িয়ে ভোট বানচালের ভয়াবহ ছক ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে যখন ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন এবং সংরক্ষণের কার্যক্রম শেষ ধাপে, ঠিক সেই মুহূর্তেই নাশকতার এক ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক পরিকল্পনার তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই পরিকল্পনার মূল অংশ হলো—যেসব স্থানে নির্বাচনী সরঞ্জাম রাখা হয়েছে, সেখানে রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলা চালানো এবং ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রল বোমা ব্যবহারের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ করে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলা, যাতে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটিই ভণ্ডুল হয়ে যায়।

আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাডারদের হাতে ইতিমধ্যে গ্রেনেড ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ‘হিট স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে, যারা শুধু সরঞ্জাম ধ্বংসের কাজ করবে। দুটি নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং নির্বাচন কমিশনে আগাম তথ্য পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এ তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে সতর্কতা জারি করেছে।

টার্গেট গুদাম ও স্টোররুম নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা সদর থেকে উপজেলা পর্যায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। ইউএনওরা (সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা) এসব সরঞ্জাম স্কুল-কলেজভিত্তিক অস্থায়ী স্টোররুমে সংরক্ষণ করছেন। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এই স্থানগুলোর দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির শীর্ষপর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে ‘কঠোর কর্মসূচি’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো—ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা।

‘হিট স্কোয়াড’ ও রেকি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনটির প্রশিক্ষিত সদস্যদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ রেকি করবে, কেউ বিস্ফোরক বহন করবে। তারা রাতে কিংবা ভোরের দিকে নির্বাচনী সরঞ্জাম রাখা গুদাম, উপজেলা নির্বাচন অফিস এবং পরিবহন বহরের ওপর হামলার ছক কষছে। ইতিমধ্যে এসব স্থানের আশপাশে পাহারার সময়সূচি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ চলছে বলে তথ্য মিলেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ গুদাম ও স্টোররুমে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোসহ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, “যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।”

এছাড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ভার্চুয়্যাল গুজব ও সাইবার নজরদারি সক্রিয় নাশকতার পাশাপাশি ভার্চুয়্যাল জগতে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে ‘ভোট বাতিল হয়ে গেছে’ বা ‘সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে’—এমন সব ভুয়া খবর ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ছক কষা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাইবার ইউনিটের নজরদারি কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে বিভ্রান্তি ছড়ানোও নাশকতার একটি বড় অংশ।

নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, পাড়া-মহল্লায় কোনো সন্দেহভাজন বা অচেনা ব্যক্তির তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত