পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, চলমান বিতর্ক যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপশক্তি যেন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে—সেই বিবেচনাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত নিজের বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, নিট-ইউজি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট সংকটের শুরু থেকেই তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। বরং নৈতিক দায় স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত নতুন সুযোগ পেতে পারে।

ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, সরকারের পদক্ষেপের ফলে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশজুড়ে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আটকে না যায় এবং তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে, সেটিই ছিল তাঁর অগ্রাধিকার।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পুরো বিতর্ক চলাকালে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।

তরুণদের উদ্দেশে ধর্মেন্দ্র প্রধান আহ্বান জানান, তারা যেন গুজব বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেয় এবং নিজেদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগী থাকে।

সবশেষে তিনি বলেন, তাঁর পদত্যাগ কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত