মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি **‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’**সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়, বরং তেহরানের সরকার পতন (Regime Change) ঘটানো।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) দ্য গার্ডিয়ান-এর আপডেটেড প্রতিবেদনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও সামরিক প্রস্তুতি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী রণতরিগুলো এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে না পৌঁছালেও ইরানের ওপর আঘাত হানার সীমানার মধ্যেই রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে একটি মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধজাহাজ থেকে কত দ্রুত যুদ্ধবিমান ওঠানামা করানো যায়, তা যাচাই করা।
-
লক্ষ্যবস্তু: এবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। উদ্দেশ্য হলো জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষকে আবারও রাস্তায় নামিয়ে আনা।
-
ভৌগোলিক কৌশল: সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে ভূমধ্যসাগরে মার্কিন রণতরির উপস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তৃতীয় কোনো দেশের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না।
ইরানের নাজুক অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট কূটনৈতিক আলোচনার কোনো ইতিবাচক লক্ষণ না থাকায় গত সোমবার ইরানের পুঁজিবাজারে রেকর্ড দরপতন হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, গত মাসে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশে ঠেকেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা কট্টরপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলেও, অনেক ইরানি বিদেশি শক্তির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পক্ষপাতী নন।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি
-
আলী লারিজানি (সচিব, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল): তিনি দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিকে ‘জরুরি অবস্থার’ মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা নিজেই এক ধরনের যুদ্ধ।
-
ইসমাইল বাঘাই (মুখপাত্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়): মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনার দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান ‘সর্বাত্মক ও অনুশোচনাজনক’ জবাব দেবে।
ট্রাম্পের দোলাচল ও উইটকফের শর্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি শর্ত দিয়েছেন: জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শক দল ফিরিয়ে আনা, উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা থেকে পিছিয়ে এসেছিলেন। কারণ, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর কোনো বিকল্প বা ইসরায়েলকে রক্ষার বিস্তারিত পরিকল্পনা তার হাতে ছিল না। ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে।
ইউরোপের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতির উত্তাপে ইউরোপীয় রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) একটি ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করবেন।