ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখনো প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ইত্তেফাক ডিজিটালের প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনাস্থল ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুরাংরাং-এর ঢাল থেকে নেমে আসা এই ধস সরাসরি আঘাত হানে পাসির লানগু (Pasir Langu) গ্রামে।
-
ধ্বংসযজ্ঞ: গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
-
পরিস্থিতি: কাদা, বিশাল পাথর এবং উপড়ে পড়া বড় গাছের নিচে চাপা পড়েছে বহু মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও চ্যালেঞ্জ বসার্নাস (Basarnas) প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান, খারাপ আবহাওয়া এবং বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধার কার্যক্রমকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
-
যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা: ভূমি খুবই নরম এবং অস্থিতিশীল হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি (Heavy Machinery) ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
-
উদ্ধার কৌশল: ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা কৃষি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম (Farm Tools) এবং খালি হাতে কাদা সরিয়ে মরদেহ ও আটকা পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
-
প্রযুক্তি: নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন ও স্নিফার ডগ (কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের কাদার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সাবধানে এগোতে হচ্ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিদর্শন ও সতর্কতা ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জিবরান রাকাবুমিং রাকা গতকাল শনিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে, বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বান্দুংকে সতর্ক করে বলেন:
-
“দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি পরিবর্তনের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
-
তিনি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এলাকাগুলোর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছর অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টি এবং উচ্চ জোয়ারের কারণে নিয়মিত বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশটির কোটি কোটি মানুষ পাহাড়ি এলাকা বা উর্বর তীরবর্তী সমতল এলাকায় বসবাস করেন, যা তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম ঝুঁকিতে রাখে।