শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি, খেলাধুলা এবং সুস্থতার জন্য প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে শিশুর বয়স, ওজন এবং শারীরিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই চাহিদার তারতম্য ঘটে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী এক নিবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত ওই নিবন্ধে শিশুর ক্যালরি চাহিদা নির্ণয় ও খাদ্যের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
ক্যালরি কেন প্রয়োজন? শিশুর দেহে ক্যালরি মূলত চারটি প্রধান খাতে খরচ হয়: ১. বেসিক মেটাবলিজম: শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রধান অঙ্গগুলোর কাজকর্ম সচল রাখতে। ২. থার্মোরেগুলেশন: দেহের তাপমাত্রা সুরক্ষা বা উষ্ণ রাখতে। (শীতলতায় ভুগলে শিশুর ক্যালরি অকারণে খরচ হয়)। ৩. শারীরিক কসরত: মাংসপেশি চালনা ও খেলাধুলার জন্য। ৪. শারীরিক বৃদ্ধি: নতুন নতুন কোষকলা তৈরির মাধ্যমে বেড়ে ওঠার জন্য।
বয়স ও ওজনভেদে ক্যালরি চার্ট (প্রতি কেজি ওজনে) শিশুদের প্রয়োজনীয় ক্যালরি সাধারণত তাদের প্রতি কেজি ওজন হিসেবে নির্ণয় করা হয়:
-
০ থেকে ১২ মাস: ১১০-৮৫ কিলোক্যালরি।
-
১ থেকে ৩ বছর: ৯৫-৮৫ কিলোক্যালরি।
-
৩ থেকে ১২ বছর: ৮৫-৬০ কিলোক্যালরি।
-
বয়ঃসন্ধিকাল: প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০ কিলোক্যালরি।
-
অকালিক (Premature) শিশু: এদের চাহিদা বেশি, দৈনিক প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি।
-
নবজাতক (০-৬ মাস): সুস্থ নবজাতক মায়ের দুধ থেকেই এই প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি পেয়ে থাকে।
সহজ হিসাব ও বিশেষ টিপস
-
১ বছরের পর হিসাব: প্রথম বছরে শিশুর দৈনিক প্রায় ১০০০ কিলোক্যালরি প্রয়োজন। এরপর ১০০০ কিলোক্যালরির সঙ্গে বয়সের বছর যোগ করে চাহিদা বের করা যায়। (যেমন: ২ বছরের শিশুর ১০০২ কিলোক্যালরি, ৪ বছরের শিশুর ১০০৪ কিলোক্যালরি)।
-
অপুষ্ট শিশু: অপুষ্ট শিশুর ক্যালরি চাহিদা তার বর্তমান ওজন ধরে নয়, বরং তার বর্তমান উচ্চতা অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। তাদের খাবারে অতিরিক্ত তেল বা মাখন যুক্ত করা উচিত।
-
স্থূলকায় শিশু: এদের খাদ্যতালিকায় অতিমাত্রায় চর্বি পরিহার করা বাঞ্ছনীয়।
কোন খাবারে কত ক্যালরি? খাদ্য উপাদানের শ্রেণিভেদে শক্তি জোগানোর ধরন ভিন্ন:
-
শর্করা: ১ গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি।
-
আমিষ: ১ গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি।
-
স্নেহ বা চর্বি: ১ গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি (সবচেয়ে বেশি শক্তিদায়ক)।
সুষম খাবারের অনুপাত মায়ের দুধ ও সুষম খাবারে ক্যালরি জোগানোর আদর্শ অনুপাত হলো:
-
শর্করা: ৩৫-৫৫ শতাংশ।
-
চর্বি: ৩৫-৪৫ শতাংশ।
-
আমিষ: ৯-১৫ শতাংশ।