রক্তাক্ত বেলুচিস্তান: কোয়েটা থেকে গদর পর্যন্ত জ্বলছে আগুন, পাল্টা দাবি সেনাবাহিনীর—খতম ৯২ ‘ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 ছবি:
ছবি:

পাকিস্তানের কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি শহরে একযোগে অতর্কিত ও ভয়াবহ সিরিজ হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এই হামলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৮০ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। নিহতদের মধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসবিরোধী দলের সদস্যরাও রয়েছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে বিএলএ এই দাবি করে। পাকিস্তান সরকারও নিশ্চিত করেছে যে, কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের ১২টি শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

‘অপারেশন হেরোফ ফেজ টু’ ও হামলার ব্যাপ্তি বিএলএ তাদের এই বড় পরিসরের অভিযানকে ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ টু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ জানান, তাদের যোদ্ধারা দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে ইসলামাবাদ নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। জিয়ান্দ বেলুচ হামলার শিকার এলাকাগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কোয়েটা, নশকি, মাসতুং, দালবানদিন, কালাত, খারান, পাঞ্চগুর, গোয়াদর, পানসি, তুরবাত, তুম্ব, বুলেদা, ম্যাঙ্গোচর, লাসবেলা, কেচ এবং আওরান।

মাঠের পরিস্থিতি বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পাক সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভবনে যোদ্ধারা অনবরত হামলা চালিয়েছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সাময়িকভাবে পাক বাহিনীর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিএলএ-র দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে। এই অভিযানে বিএলএ-র সাতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে সংগঠনটি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর (আইএসপিআর) দাবি অন্যদিকে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাদের দাবি:

  • পাল্টা অভিযানে ৯২ জন ‘ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী’কে হত্যা করা হয়েছে।

  • সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

  • এছাড়া ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত