ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮: হামলা হলে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি তেহরানের!

ডেস্ক রিপোর্টঃ
 ছবি:
ছবি:

রানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রকার হামলা চালালে তার পাল্টা ও ভয়াবহ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি কোনো হামলা চালায়, তবে তার জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এদিকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ (HRANA)-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে ইরান সরকারিভাবে এখনো হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ইরানের চরম হুঁশিয়ারি ও স্পিকারের বক্তব্য গতকাল ইরানের পার্লামেন্টে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন। ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার বলেন, “স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো প্রকার ভুল পদক্ষেপ বা হিসাব না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

নিহত ও আহতের পরিসংখ্যান মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর গতকালের তথ্য অনুযায়ী:

  • মোট নিহত: ৫৩৮ জন

  • বিক্ষোভকারী নিহত: ৪৯০ জন

  • নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত: ৪৮ জন। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গাচসারান (Gachsaran) ও ইয়াসুজ (Yasuj)-সহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য প্রচার করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও মাঠের পরিস্থিতি বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, ইরানে ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে দেশটির ভেতরের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে রাজধানী তেহরানের পুনাক (Punakh) এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে একটি সেতু বা ধাতব কাঠামোয় আঘাত করছেন। রয়টার্স ভিডিওটির স্থান যাচাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অবস্থান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “জনগণের যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, আমরা তা শুনব। এটি আমাদের কর্তব্য। কিন্তু সর্বোচ্চ কর্তব্য হলো দাঙ্গাবাজদের সমাজকে অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া।” তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “জনগণকে এটা বিশ্বাস করা উচিত যে আমরা (সরকার) ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে এবং বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ইরানে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ট্রাম্পের হুমকি চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে তিনি বলেন, “হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইরান এখন বেশি করে স্বাধীনতা খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত!” তিনি ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়েও সতর্ক করেছেন।

ইসরায়েলের গোপন তৎপরতা ও সতর্কতা ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে, গত শনিবার টেলিফোনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তাও এই কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে বিস্তারিত জানাননি। সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে উপস্থিত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দেশটি বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ (Maximum Alert) রয়েছে। যদিও ইসরায়েল সরকার বা সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

পূর্ববর্তী যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ইসরায়েল এখনো সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত না দিলেও ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত