অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইবাইক চার্জ দেওয়ার কারণে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বদলে গেছে। রাত ১২টার পরও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি রাতে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইবাইক চার্জ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এসব যানবাহনের অনেকগুলো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকার অভিযান পরিচালনা করছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
এ সময় দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে একটি এফএসআরইউ চালু রেখে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও তিনটি নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পায়রা, মোংলা এবং হিরণ পয়েন্ট বা খুলনা অঞ্চলে এসব টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই খাতে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারাও বক্তব্য দেন।