বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাইয়ে তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরকে ৪৫ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন—এমন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি কেবল অভিভাবক, কিন্তু দলিলে মালিক হিসেবে তার নামও রয়েছে।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দাবি বনাম বাস্তবতা কিছুদিন আগে সাবেক এই গভর্নর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনোদিন বিদেশে কোনো টাকা পাঠাননি এবং দুবাইয়ের ওই সম্পত্তি তার কন্যার। তিনি দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে কেনা এবং দলিলে কেবল অভিভাবক হিসেবে তার নাম রয়েছে।
তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী:
-
ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর (২০২৩ সালে নয়)।
-
ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায়।
-
দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুরের নাম যৌথভাবে রয়েছে।
দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মালিক না হয়ে কেবল অভিভাবক হলে তার নাম ‘অভিভাবক’ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু দলিলে তেমনটি নেই, যা আইনগতভাবে তাকে সরাসরি মালিক হিসেবেই সাব্যস্ত করে।
রেজিস্ট্রেশনের দিন দুবাইয়ে উপস্থিতি অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশনের দিন আহসান এইচ মনসুর শারীরিকভাবে দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভ্রমণ তথ্য অনুযায়ী:
-
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান।
-
২২ ডিসেম্বর ইথিওপিয়া হয়ে একই দিন দুবাই পৌঁছান।
-
২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
এই সময়সূচি প্রমাণ করে যে, তিনি ২৪ ডিসেম্বর সারাদিন দুবাইতেই অবস্থান করছিলেন এবং ওইদিন ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। দুবাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, দলিলের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। দলিলে তার স্বাক্ষর এবং উপস্থিতির সময়কাল একই সূত্রে গাঁথা, যা তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।