অপদার্থ বলা হচ্ছে, অথচ গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেছি: আসিফ

সহযাত্রী ডেস্ক:
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজের ও মন্ত্রণালয়ের কাজের সমালোচনা প্রসঙ্গে ফেসবুকে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জানি সমালোচনা করতে কারো কারো ভালো লাগবে। সেটা করেন, সমস্যা নাই। তবে আমার একান্ত অনুরোধ, তার আগে কী কী কাজ করা হয়েছে তা একটু জেনে নিন।”

গতকাল রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গত দেড় বছরের কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

কাজের জবাব ও ব্যক্তিগত ত্যাগ আসিফ নজরুল লেখেন, “দেশের সেবা করার সুযোগ পেলে নাকি জান দিয়ে কাজ করবে? আসলে সে কিছুই করেনি। অপদার্থ একটা উপদেষ্টা... ইত্যাদি কত কিছু শুনলাম এই দেড় বছরে।”

তিনি বলেন, “ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম। খুব সকালে অফিসে এসে প্রয়োজনে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত থেকেছি, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গভীর রাতে বাসায় আবার কাজ করেছি। বহু শুক্রবার, শনিবার সচিবালয়ে অফিস করেছি। আমাদের এই টিমওয়ার্কে কোনো ফাঁকি ছিল না।”

দেড় বছরের অর্জন ও পরিসংখ্যান পোস্টে তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন মন্ত্রণালয় গত দেড় বছরে ব্যাপক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ২২টি আইনি সংস্কার

  • ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন

  • ২৪,২৭৬টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার

  • গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা

  • প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম বৃদ্ধি

উল্লেখযোগ্য সংস্কারসমূহ আইনি সংস্কারের মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন, মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথাও জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে নিপীড়নমূলক ধারা বাতিল এবং অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন ও তালাক নিবন্ধনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটালাইজেশন ও বিচার বিভাগ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড এবং বিচারকদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দেড় বছরে রেকর্ড সংখ্যক ১৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, শিগগিরই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কী কাজ হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত