নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় দেশ: টহল ও মহড়ায় প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী

সহযাত্রী ডেস্ক:
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ১৬ বছর পর এবারের নির্বাচন যেমন উৎসবমুখর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নাশকতা-সহিংসতাসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা মাথায় রেখে আট বিভাগের ৪৫টি জেলায় ৩ হাজার ১১৫টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা।

এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীসহ ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সারা দেশে টহল, মহড়া ও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা:

  • ঢাকা বিভাগ: ৮১৮টি (সর্বাধিক)। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ সহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি আসন এবং নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অন্তর্ভুক্ত।

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ৫৯৮টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় ঝুঁকি বেশি।

  • বরিশাল বিভাগ: ৪৯০টি। ভোলা ও বরিশালের বেশ কয়েকটি আসন ঝুঁকিপূর্ণ।

  • খুলনা বিভাগ: ৪০১টি।

  • রাজশাহী বিভাগ: ৩২৬টি।

  • রংপুর বিভাগ: ২৪৫টি।

  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ১৭৪টি।

  • সিলেট বিভাগ: ৬৩টি।

আকাশপথে নজরদারি ও ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ নির্বাচনী মাঠে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে আকাশপথের নিরাপত্তা। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান লজিস্টিক সহায়তা এবং ড্রোনভিত্তিক নজরদারিতে নিয়োজিত রয়েছে। একে বলা হচ্ছে কৌশলগত ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ সক্ষমতা।

  • বিমানবাহিনী: ৩,৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জেলার ৩৫ উপজেলায় তারা ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘মোবাইল রেসপন্স সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করবেন।

  • বিজিবি: ১,২১০ প্লাটুন এবং ৩৫-৩৭ হাজার সদস্য ৪৯৫টি উপজেলায় মোতায়েন রয়েছেন। সীমান্তে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড: উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তায় ৫,০০০ নৌবাহিনী এবং ৩,০০০ কোস্টগার্ড সদস্য জাহাজসহ টহলে রয়েছেন।

ইমিগ্রেশন বন্ধ ও বিশেষ নির্দেশনা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা দেশের সব স্থলবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কৌশল প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সমন্বয়ে একটি টিম সার্বক্ষণিক থাকবে। কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও বিজিবি টহল দেবে। পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এনআইডি সার্ভার ও নির্বাচনী ডাটা সুরক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা এবং মাল্টি-পার্টি কম্পিউটেশন (এমপিসি) ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর অধিকাংশ কেন্দ্রকে এবার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পুলিশের স্ট্রাইকিং ও টহল দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সহিংসতা বা কেন্দ্র দখলের খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘পরিমিত বলপ্রয়োগ’ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করতে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত