১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার আনন্দ: ঈদযাত্রার মতো বাড়ি ফিরছে মানুষ

সহযাত্রী ডেস্ক:
কর্মজীবী মানুষ ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে ছবি: সংগৃহীত
কর্মজীবী মানুষ ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে ছবি: সংগৃহীত

ভোটের আমেজেই যেন ঈদের ছোঁয়া লেগেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে কুমিল্লা থেকে দূরবর্তী জেলার মানুষজনের বাড়ি ফেরা এখন এক আবেগঘন উৎসবের রূপ নিয়েছে। পরিবারের টান আর নাগরিক দায়িত্ব—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে কুমিল্লার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের উপচে পড়া ঢল। বড় অঙ্কের যানবাহন খরচ বহন করেও কর্মজীবী মানুষ ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে, শুধুমাত্র ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।

সরেজমিন চিত্র: বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে ভিড় মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দেখা গিয়েছে যানবাহনের তীব্র চাপ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কোলে শিশু, সবার চোখেমুখে এক ধরনের তৃপ্তি, যেন ভোট দেওয়াই এবারের সবচেয়ে বড় উৎসব।

নাড়ির টানে শ্রমিক ও পেশাজীবীরা চাকরি, ব্যবসা কিংবা পড়াশোনার প্রয়োজনে যারা কুমিল্লায় বসবাস করছেন, তাদের বড় একটি অংশ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে নিজ নিজ দূরবর্তী জেলায় ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর কাজের ব্যস্ততায় ভোট দেওয়া হয়ে ওঠে না, কিন্তু এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।

কুমিল্লা ইপিজেডের সামনে কথা হয় কুড়িগ্রামগামী যাত্রী জুয়েল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, “সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। সাধারণত বছরে দুই ঈদে বাড়ি যাই। এবার ভোট উপলক্ষে স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করব, আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দেব। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই, সবাই যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে।”

একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন নীলফামারীর বাসিন্দা ও কুমিল্লায় কর্মরত গার্মেন্টস কর্মী আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করেছি। ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই আনন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে বাড়ি যাচ্ছি। ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করব এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

রেলপথেও উপচে পড়া ভিড় রেলস্টেশনগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র। ট্রেনের ভেতরের প্রতিটি আসন পূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে ছাদেও যাত্রী দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড়ে মুখর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন। দীর্ঘ ভ্রমণ আর ভিড়ের মধ্যেও কারও মুখে বিরক্তির ছাপ নেই; বরং চোখেমুখে রয়েছে উৎসবের আনন্দ আর দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা মাঠে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি, ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।”

সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষজন প্রমাণ করছেন ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি একটি উৎসব, একটি দায়িত্ব, আর দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত