বুলেট বিপ্লবকে ব্যালট বিপ্লব দিয়ে প্রতিরোধ করা হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

সহযাত্রী খুলনা বিভাগীয় ডেস্ক:
খুলনার ফুলতলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ফুলতলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘১২ তারিখ আমরা নিচ্ছি ব্যালটের প্রস্তুতি, একটা দল নিচ্ছে বুলেটের প্রস্তুতি। আমরা এই বুলেট বিপ্লবকে ব্যালট বিপ্লব দিয়ে প্রতিরোধ করব। আমরা জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব।’

আজ শনিবার বিকেলে খুলনার ফুলতলায় ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে, ডামি নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে। এসপি-ডিসি থেকে শুরু করে ওসি-কনস্টেবল সবাই এসব জনগণবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাক্ষী ছিলেন।’

তিনি বলেন, এসব কাজ ওপর মহলের নির্দেশে হয়েছে বলেই তারা বিশ্বাস করতে চান। ‘আপনাদের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আগামী নির্বাচনে জনতার কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করেন। জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে,’ বলেন তিনি।
এবারের নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয় উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচন পেতে সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আয়নাঘর শুধু একটি স্থাপনা নয় একসময় সারা বাংলাদেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের আগে বায়তুল মোকাররমের সামনে লগি–বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে। ‘এই নির্বাচন শহীদদের রক্তে লেখা,’ বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক এসে তাঁদের দুঃখের কথা জানান। যে খবর তাঁরা প্রচার করতে চান, তাঁদের দালাল মালিক মিডিয়া তা প্রচার করতে দেয় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর সরকার গঠনের সময় মন্দির–মসজিদ পাহারা দেওয়া ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আড়াল করে একটি পক্ষ মিডিয়া ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। ‘জুলাইয়ে কয়েকটি মিডিয়া ছাড়া কেউ জনতার কথা বলেনি। জনগণ যখন জাগে, তখন কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না জনগণই তখন মিডিয়া হয়ে ওঠে,’ বলেন তিনি।

ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ কালোটাকা ও টাকার বস্তা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। ভোটের আগে এক দিন টাকা নিয়ে পাঁচ বছর গোলাম থাকবেন, নাকি বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছর সেবা নেবেন সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভোট বিক্রি করলে পাঁচ বছর গোলামি করতে হবে। এই ভোটাধিকার অর্জনের জন্য শতসহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাঁদের রক্তের দোহাই দিয়ে বলছি ভোট কেনাবেচা করবেন না।’

এলাকার খবর

সম্পর্কিত