বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এ দেশের ২৭ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের তৌফিক দিলে সেই টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের তহবিলে জমা করা হবে। যারা অতীতে ও বর্তমানে দেশবাসীর কাছে সততা প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই।”
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পটুয়াখালী-২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
‘১৩ ফেব্রুয়ারি নতুন সূর্য’ ও সুশাসনের অঙ্গীকার নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ের ইঙ্গিত দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আগামী ১৩ তারিখে (১২ তারিখ নির্বাচনের পরদিন) নতুন বাংলাদেশকে পিঠে নিয়ে সূর্য উদয় হবে। যদি আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, তবে বাংলাদেশ মানুষের হাতের দশ আঙুলের চেয়ে পরিচ্ছন্ন থাকবে।” তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে বলেন:
-
“চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মামলা বাণিজ্য আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না।”
-
“যদি কেউ অন্যায় মামলা করেন, তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
-
“ব্যাংক ও প্রজেক্টের টাকা চুরি করতে দেওয়া হবে না।”
উন্নয়ন দর্শন: ‘মামু-খালুর টেলিফোন চলবে না’ উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে দলের নীতি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত ও শোষিত হয়েছে, সেখান থেকেই উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে। এখানে মামু-খালুর টেলিফোনে কাজ হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বা রাষ্ট্রপতির বাড়ি কোথায়, সেটি বিবেচনা করা হবে না; ন্যায্যতার ভিত্তিতে জনগণের পাওনা নির্ধারণ করা হবে।” বরিশালবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “নদী ভাঙনে সর্বহারা হওয়ার হাহাকারসহ আপনাদের যত বঞ্চনা আছে, আমাদের সুযোগ দিলে সেসব অধিকারের জন্য লড়তে হবে না। ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হবে।”
প্রার্থী ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সভায় ডা. শফিকুর রহমান পটুয়াখালীর চারটি আসনে জামায়াত ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
-
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
-
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ জামায়াত ও শরিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।