বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “স্বৈরাচারের মতোই ‘গুপ্তরা’ এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।”
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি সাবেক জোটসঙ্গীদের লক্ষ্য করে এই তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।
নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের কড়া জবাব সম্প্রতি একটি দলের শীর্ষ নেতার নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতা ও কর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না।” নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশকে সামনে নেওয়া যাবে না। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, তা না হলে প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।”
কুমিল্লার নেতার ‘পা ধরা’ প্রসঙ্গ তারেক রহমান কুমিল্লার এক নেতার ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের রেফারেন্স টেনে বলেন, “গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন—‘১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে।’ কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারে! তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা নেমে আসবে। তাই গুপ্তদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।”
রাজনৈতিক অতীত ও ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, এই ‘গুপ্ত’ দলটি অতীতেও স্বৈরাচারের দোসর ছিল। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল। তারা হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬ সহ বিগত ১৫ বছর তারা তাদের (স্বৈরাচারের) সঙ্গেই ছিলেন।”
বরিশালের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বরিশালের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “বরিশালে নদী-ভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ বিএনপির আমলে শুরু হয়েছিল যা শেষ করা যায়নি। বিএনপি জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়।”