রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এক দিনের ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুইবার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যেই ফল্টে এই ভূমিকম্প হয়েছে, সেটি খুবই সক্রিয় এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক (পরাঘাত) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
রাতের জোড়া আঘাত ও উৎপত্তিস্থল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে দুই দফায় ভূমিকম্প হয়: ১. প্রথম কম্পন: রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। ২. দ্বিতীয় কম্পন: রাত ৯টা ৫১ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। উভয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা ও আফটারশক কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এক ফেসবুক পোস্টে আমেরিকান ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তর (ইউএসজিএস)-এর তথ্যের বরাতে জানান:
-
গভীরতা: ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।
-
সক্রিয় ফল্ট: এই ভূমিকম্পটি ঠিক সেই একই ফল্টের ওপরে সংঘটিত হয়েছে, যে ফল্টে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।
-
সতর্কবার্তা: ফল্টটি খুবই সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক বা পরবর্তী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
ভোরের ভূমিকম্প: সাতক্ষীরা এর আগে মঙ্গলবার ভোরেও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
-
মাত্রা: ৪.১ (মৃদু শ্রেণি)।
-
কেন্দ্রস্থল: রাজধানী ঢাকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়।
-
অবস্থান: ২২.৮৪ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
একই দিনে দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তে এভাবে ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়াকে ভূতাত্ত্বিকরা বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।