ভোটকেন্দ্রে থাকবে ড্রোন ও বডি ক্যামেরা: গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট গণনায় বিশেষ সতর্কতা, আনসার থাকবে ভেতরে

ডেস্ক রিপোর্ট
 ছবি:
ছবি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জাতীয় সনদ’ (National Charter) বাস্তবায়নকে সামনে রেখে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভার নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটি ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য একটি আদর্শ স্থাপন করবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মন্ত্রণালয়: স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

  • বাহিনী প্রধানগণ: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর প্রধানরা।

প্রধান উপদেষ্টার বার্তা ও চ্যালেঞ্জ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন হবে দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আদর্শ স্থাপন করবে।” তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা মেনে কাজ করার এবং নির্বাচনকে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে আয়োজনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ভেতরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের কড়া নজর থাকবে, তাই সবার দায়িত্ব আরও বেশি।

প্রযুক্তি ও নজরদারি: ড্রোন এবং বডি ক্যামেরা নির্বাচনী অনিয়ম রোধে এবার নজিরবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:

  • বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা: ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের জন্য বডি ক্যামেরা এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, মনিটরিং টিম দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে।

  • ড্রোন প্রযুক্তি: কেন্দ্রের আশপাশে ড্রোন প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে।

  • তথ্য সংগ্রহ: কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে।

গণভোট ও ব্যালট ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ব্যালট পেপার এবং ভোট গণনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টাল ব্যালট এবং দলীয় প্রতীকের ব্যালটের পাশাপাশি ‘গণভোটের ব্যালট’ গণনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং সতর্কতা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বিন্যাস ভোটকেন্দ্রে বাহিনীর অবস্থান কেমন হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে:

  • ভোটকেন্দ্রের ভেতরে: প্রিজাইডিং অফিসার ও কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা থাকবেন।

  • স্ট্রাইকিং ফোর্স: প্রয়োজন হলে পুলিশ ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী (সেনাবাহিনী/বিজিবি) ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। তারা মূলত কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে।

অবকাঠামো ও পরিবেশ সাইবার জগত ও তথ্য পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে।

রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের তারিখ সভায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পরিস্থিতি, ইতিবাচক মনোভাব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে চূড়ান্ত ধাপ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত