স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। তিনি প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা যতটুকু আশা করেছিলাম তার চেয়েও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেটের প্রশাসন। এবারের প্রস্তুতি খুবই ভালো, কোথাও কোনো ঘাটতি নেই।”
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেটের সুবিদবাজারস্থ প্রাইমারি ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) অডিটোরিয়ামে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপত্তার খুটিনাটি ও বাহিনীর বিন্যাস স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে নিরাপত্তা ছক নিম্নরূপ:
-
প্রযুক্তি: প্রতিটি ভোটিং সেন্টারে সিসি ক্যামেরা থাকবে। সব কেন্দ্রে না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (Body Worn Camera) ব্যবহার করা হবে।
-
আনসার বাহিনী: প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা। এদের মধ্যে আবার ৩ জন আর্মড (সশস্ত্র) আনসার থাকবেন।
-
বিশেষ ইউনিট: নিরাপত্তার কাজে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে।
-
স্ট্রাইকিং ফোর্স: সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে শক্তিশালী স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম মাঠে থাকবে।
‘প্রশাসনে আওয়ামী লীগের দোসর নেই’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসর বলে কিছু নেই। সবাই সৎ অফিসার, ভালো অফিসার। সবাই একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে কাজ করছেন।”
ইসি’র মন্তব্য প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। কারণ, ওই নির্বাচন কমিশনারের কোনো বক্তব্য আমি শুনিনি।”
উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
-
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
-
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন নবী। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।