শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১: প্রশাসনের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে রণক্ষেত্র, প্রাণ গেল জামায়াত নেতার

শেরপুর প্রতিনিধি
শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ছবি:
শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ছবি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাত পৌনে ১০টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল

সংঘর্ষের সূত্রপাত: চেয়ারে বসা নিয়ে হট্টগোল উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠান ছিল।

  • ঘটনার বিবরণ: জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে সামনের সারির চেয়ারে বসে ছিলেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করেন।

  • উত্তেজনা: অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারির চেয়ারে বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রণক্ষেত্র ঝিনাইগাতী: চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ভাঙচুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

  • মঞ্চের সামনে রাখা শত শত চেয়ার তুলে একে অপরের দিকে ছুড়ে মারে উভয় পক্ষের কর্মীরা।

  • বিক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

  • সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • জামায়াত: প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, “বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের নেতা নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।”

  • বিএনপি: প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, “জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।”

প্রশাসনের পদক্ষেপ খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।”

এলাকার খবর

সম্পর্কিত