বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক: জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ হ্যাকের নেপথ্যে ছরওয়ারে আলম, জব্দ ল্যাপটপ-মোবাইল

নিজস্ব প্রতিবেদক
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) হ্যাকের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

আটক অভিযান ও জব্দকৃত আলামত ডিবির একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জামায়াতের অভিযোগ ও ‘স্মোকিং গান’ গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিল, সরকারি মেইল ব্যবহার করে তাদের আমিরের আইডি হ্যাক করা হয়েছে। দলের আইটি সেলের সদস্য প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান তখন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করেন।

  • ফাঁদ: হ্যাকার assistantprogrammar@bangabhaban.gov.bd—এই সরকারি ইমেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে জামায়াতের মেইলে ‘নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য’ নামে একটি ফাইল পাঠিয়েছিল। ওই ফাইলে ক্লিক করার মাধ্যমেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।

  • শনাক্তকরণ: জামায়াতের আইটি সেল সেদিনই জানিয়েছিল, ওই মেইলটি যার আইডি থেকে এসেছে, তার নাম ছরওয়ারে আলম এবং তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে (বঙ্গভবন) কাজ করেন।

হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্ট গত শনিবার বিকেলে হ্যাক হওয়ার পর জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল থেকে ইংরেজিতে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা ছিল: “আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তাঁরা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।

এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থক ও সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তারা অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করেছেন। তবে জামায়াত তাৎক্ষণিকভাবে বিবৃতি দিয়ে জানায়, এটি সাইবার হামলার ফল এবং বক্তব্যটি আমিরের নয়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত