চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় খেলার সময় গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে মেজবাহ উদ্দিন নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রাম থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে সে গর্তে পড়ে যায়।
ঘটনাস্থল ও দীর্ঘদিনের অবহেলা নিহত শিশু মেজবাহ উদ্দিন ওই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে এক চরম অবহেলার চিত্র:
-
শিশুটির ঘরের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে গত ৪-৫ বছর আগে সরকারিভাবে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছিল।
-
কিন্তু এতদিনেও সেখানে নলকূপ বসানো হয়নি এবং গর্তটি অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। আজ বিকেলে খেলতে গিয়ে শিশুটি সেই মরণফাঁদে পড়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা বিকেলে শিশুটি পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
-
শনাক্তকরণ: ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ক্যামেরায় গর্তের ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
-
অক্সিজেন সরবরাহ: শিশুটিকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে পাইপের মাধ্যমে গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।
-
উদ্ধার: ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আশপাশের লোকজনও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৮টায় তাকে গর্ত থেকে তুলে আনা হয়।
পুলিশের বক্তব্য রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “আজ বিকেল ৪টার দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে থাকা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
ফিরে এল তানোর ট্রাজেডির স্মৃতি এই ঘটনাটি গত বছরের আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। গত বছরের (২০২৫) ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত নলকূপের ৩০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর তাকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। রাউজানের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, অরক্ষিত নলকূপের গর্ত শিশুদের জন্য কতটা বিপজ্জনক।