জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ভারত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদের’ ওপর গণভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এই বার্তা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এই বার্তা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও বক্তব্য দেন।
গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন প্রণয় ভার্মা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সব সময় একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখব।”
৭১-এর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গভীরতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন যৌথ ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসসহ আমরা একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের থেকে শুরু করে—যাদের রচনা আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে সংযুক্ত করে—নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পর্যন্ত, আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যে এক গভীর সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য বিরাজ করছে।”
অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কানেক্টিভিটি হাই কমিশনার দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতার উদাহরণ টেনে বলেন:
-
জ্বালানি সংযোগ: ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের জন্য আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে আসা আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন—এগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির প্রমাণ।
-
বাণিজ্য: ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খল বাংলাদেশের সমৃদ্ধ তৈরি পোশাক শিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ডিজিটাল ও গ্রিন এনার্জি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা দিয়ে তিনি বলেন, “আজ তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হতে পারে।” তিনি প্রস্তাব দেন: ১. আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল ও যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করা। ২. জ্বালানি করিডোর বিনির্মাণ এবং অঞ্চলের জ্বালানির ভবিষ্যৎ পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী করা। ৩. জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলা করা।
পারস্পরিক সংবেদনশীলতার আহ্বান প্রণয় ভার্মা বলেন, এই সম্পর্ক হতে হবে “বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব... যা পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতার দ্বারা লালিত হয়।” তিনি বাংলাদেশের জনগণের আগামীর যাত্রায় শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।