রোজার আগেই উত্তপ্ত বাজার: বন্দরে ভাসছে ৪৫ লাখ টন পণ্য, তবু বাড়ছে ছোলা-চিনি ও তেলের দাম!

ডেস্ক রিপোর্ট
 ছবি:
ছবি:

পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন। আমদানি গত বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন, পাম অয়েল, চিনি, ডাল, ছোলা ও আদার দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা ‘সরবরাহ সংকট’-এর অজুহাত দিলেও মূলত বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং মনিটরিংয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির খতিয়ান (খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার) চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত এক সপ্তাহে পণ্যের দামের চিত্র:

  • ছোলা: কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা

  • অ্যাংকর ডাল: কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা

  • চিনি: প্রতি মণে (৪০ কেজি) ১০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা

  • পাম অয়েল: প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৯০ টাকায়

  • এছাড়াও আদা ও রসুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। টিসিবির প্রতিবেদনেও রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন, পাম অয়েল ও আদার দাম বাড়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রেকর্ড আমদানি ও এলসি পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার পণ্য আমদানির এলসি খোলার হার অনেক বেশি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের তুলনা করলে দেখা যায়:

  • মটর ডাল: আমদানি বেড়েছে ২৯৪ শতাংশ

  • খেজুর: আমদানি বেড়েছে ২৩১ শতাংশ

  • মসুর ডাল: বেড়েছে ৮৭ শতাংশ

  • সয়াবিন তেল: বেড়েছে ৩৬ শতাংশ

  • ছোলা: বেড়েছে ২৭ শতাংশ

  • চিনি: বেড়েছে ১১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৬.২৯ বিলিয়ন এবং অক্টোবরে ৫.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে।

বন্দরে ৪৫ লাখ টন পণ্য আটকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি ভোগ্যপণ্য (গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ছোলা, চিনি ইত্যাদি) খালাসের অপেক্ষায় ভাসছে। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের এজিএম মো. জামশেদ আরেফিন জানান, “বন্দরে লাইটার জাহাজের সমস্যার কারণে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। দ্রুত খালাস না হলে সংকট বাড়বে।”

বিশেষজ্ঞ ও ক্যাব সভাপতির বক্তব্য

  • এ এইচ এম শফিকুজ্জামান (সভাপতি, ক্যাব): ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এই সাবেক সচিব বলেন, “রমজানকে টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা মুনাফার জন্য দাম বাড়াচ্ছে। সরকার বলছে পর্যাপ্ত পণ্য আছে, তাহলে দাম বাড়বে কেন? বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু বাজারে কোনো ধরনের মনিটরিং দেখছি না।”

  • মুস্তফা কে মুজেরী (সাবেক মহাপরিচালক, বিআইডিএস): তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ায়। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ আমরা দেখি না। অন্যায্য কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে না পারলে রমজানে ভোক্তাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।”

সরকার শুল্ক কমালেও এবং আমদানিকারকদের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিলেও বাজারে ভোক্তারা তার কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত