বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “হাসিনা আপা ভারতে গিয়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে রেখে গেছেন। আমরা সেই কর্মী-সমর্থকদের পাশে আছি। যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি হবে, আর যারা অন্যায় করেনি আমরা তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।” তিনি বলেন, এই নির্বাচনই তার জীবনের শেষ নির্বাচন, তাই সবার কাছে দোয়া ও ভোট চেয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তার নিজ আসন ঠাকুরগাঁও-১-এর দেবীপুর খুররমখাঁ আদর্শ কলোনি এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ কর্মী ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বার্তা মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি দল হিন্দু, মুসলমান ভাগ করতে চাইছে, কিন্তু আমরা তা কখনোই চাই না। আমরা এই দেশের সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। সবাই মিলে একসঙ্গে সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে চাই।” তিনি বিশেষভাবে হিন্দু ভাই ও মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
১১১ মামলা ও ব্যক্তিগত ত্যাগের গল্প বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বিএনপি মহাসচিব নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১১১টি মামলায় সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি। আমি যখন জেলে তখন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সে অবস্থাও গিয়েছে। তারপরও আমি মাথা নোয়াইনি, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও মাথা নোয়াননি।”
উন্নয়ন ও শেষ নির্বাচনের ডাক নিজ হাতে লিফলেট বিতরণ করে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি পরীক্ষিত দল, আমরা পূর্বেও ক্ষমতায় গিয়েছি এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাই আমাদের ওপর আস্থা রেখে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন। উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষ, তাই আসুন আমরা সবাই মিলে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করি।” তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন, তাই সবার কাছে দোয়া ও ভোট চাই।”
সতর্কবার্তা মির্জা ফখরুল জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “যারা মোনাফেক, মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়—তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। তাই দেশকে বাঁচাতে শক্তি দিয়ে আবারও উঠে দাঁড়াতে হবে।”