জুলাই-আগস্ট গণহত্যা: ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়ে উঠে এল শহীদ আবু সাঈদের বাবার সাক্ষ্য, আমৃত্যু কারাদণ্ড চ্যালেঞ্জ করে আপিল!

ডেস্ক রিপোর্ট
 ছবি:
ছবি:

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৩ পাতার এই ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ের মূল অংশ ও দণ্ডাদেশ গত ১৭ নভেম্বর (২০২৫) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে যা উল্লেখ রয়েছে:

  • মৃত্যুদণ্ড: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মূল অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • আমৃত্যু কারাদণ্ড ও আপিল: একটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে প্রসিকিউশন সেই সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

  • রাজসাক্ষীর সাজা: দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে রাজসাক্ষী (Approver) হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী ও শুনানি মামলাটিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষে যারা শুনানি করেছেন:

  • প্রসিকিউশন পক্ষ: চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এস এইচ তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদী ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

  • রাষ্ট্রপক্ষ: রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • আসামিপক্ষ: পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

  • রাজসাক্ষীর পক্ষ: সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

ঐতিহাসিক সাক্ষ্যগ্রহণ মামলায় সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • শহীদ পরিবার: গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদের বাবাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

  • স্টার উইটনেস (Star Witness): জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান

মামলার প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের অনুগত প্রশাসন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১০ জুলাই (২০২৫) শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলো।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত