একদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট ও আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে পাইপলাইন দুর্ঘটনায় রাজধানীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ধীরগতি— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশন, সবখানেই গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।
এলপিজি: ১৩০৬ টাকার সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায়! বাজারে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি চলছে।
-
দাম: ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু সংকটের অজুহাতে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত, যা নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ।
-
পরিস্থিতি: চড়া দাম দিতে রাজি হয়েও অনেক ভোক্তা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
-
চাহিদা বনাম সরবরাহ: দেশে মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। কিন্তু গত মাস থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।
পাইপলাইন গ্যাস: ঢাকায় কেন এই বিপর্যয়? এলপিজির পাশাপাশি ঢাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে দুটি দুর্ঘটনা: ১. আমিনবাজার: গত ৪ জানুয়ারি আমিনবাজারে পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ার পর থেকে এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় গ্যাসের চাপ কম। ২. গণভবন এলাকা: গতকাল (শনিবার) মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে তিতাসের পাইপলাইনের একটি ভালভ ফেটে যায়। মেরামতের জন্য আশপাশের ভালভ বন্ধ রাখায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও গাবতলী এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। যদিও তিতাস জানিয়েছে, মেরামত শেষে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে।
পরিবহন খাতে ধস: স্টেশন বন্ধের পথে এলপিজি সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে।
-
ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি: দেশে এলপিজি চালিত গাড়ির সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। গ্যাসের অভাবে এসব গাড়ির চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না।
-
বন্ধ হচ্ছে স্টেশন: সংগঠনের সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা জানান, সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। মালিকরা ব্যাংকঋণের কিস্তি ও কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না।
জনদুর্ভোগের চিত্র রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কামরুন্নেছা রুহী তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, "লাইনে গ্যাস নেই, সিলিন্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না। একদিন হোটেল থেকে খাবার এনে খেয়েছি। শেষমেশ বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি।"
কবে স্বাভাবিক হবে? ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার এলপিজি আমদানি বাড়ানোর দাবি মেনে নিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।