ভোটের প্রচারে জামায়াত নারীদের ওপর হামলা: ৬ বিএনপি কর্মীকে জরিমানা

সহযাত্রী ডেস্ক
জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা করছে বিএনপির প্রার্থীরা ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা করছে বিএনপির প্রার্থীরা ছবি: সংগৃহীত

যশোরের চৌগাছায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের হেনস্তা, গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার পৃথক দুটি ঘটনায় ধানের শীষের (বিএনপি) ৬ কর্মীকে জরিমানা করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তাদের মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এ সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি মামলায় সাতজনের সশরীরে হাজিরার পর শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনা-১: ধুলিয়ানী ইউনিয়ন (৩০ হাজার টাকা জরিমানা) জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীরা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান। তারা গ্রামের আইতাল হোসেন ও বাদলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে অভিযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, শিমুল হোসেন ও কবির হোসেন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাদের মোবাইল ফোন, খাতা ও কাগজপত্র কেড়ে নেয়।

রোববার অভিযুক্তরা আদালতে সশরীরে হাজির হলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়। রায়ে ইব্রাহিম হোসেন, শিমুল হোসেন ও কবির হোসেনকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় লিয়াকত আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ঘটনা-২: হাকিমপুর ইউনিয়ন (২০ হাজার টাকা জরিমানা) অপরদিকে, চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠচাকলা গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন স্থানে প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান। তারাও নারীদের গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং হাত থেকে কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

শুনানি শেষে বিচারিক কমিটি শাহাবুদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা এবং মুকুল ও মন্টু রহমানকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অর্থাৎ এই ঘটনায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আইনি ভিত্তি আদালত উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের ওই আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫-এর ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণেই ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং শুনানি শেষে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত