জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘কবরস্থানে’ পাঠিয়েছেন।
বুধবার দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তার নীতি-আদর্শ থেকে তাকে টলানো যায়নি।”
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, “১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হতো। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতি ঘুরে দাঁড়ায়। তার সময়ে বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করেছিল এবং বিশ্বে একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।”
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান কৃষকদের সুবিধার্থে ১৬০০ খাল খনন করেছিলেন, যা দেশের কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।
রিজভী বলেন, “৫ই আগস্টের পর দেশে দানবের পতন ঘটেছে, মানুষ এখন মুক্ত। আমরা আশা করছি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন। এই ষড়যন্ত্র রুখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না। তাই জনগণ ব্যালটের মাধ্যমেই নির্বাচন চায়।
কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ শুরুর আগে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও একজন আহত কর্মীর পরিবারকে জীবিকার জন্য একটি অটোরিকশা দেওয়া হয়।