বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গত চার বছরে ঘটে গেছে এক নীরব বিপ্লব। টাকার প্রয়োজনে এখন আর মানুষকে ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না, কিংবা মহাজনের কাছে চড়া সুদে হাত পাততে হয় না। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে ঘরে বসেই এখন মিলছে জামানতবিহীন ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ’। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই সেবাটি সাধারণ মানুষের আপৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রা শুরু ও বর্তমান অবস্থা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের হাত ধরে দেশে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক এই সেবায় অত্যন্ত সক্রিয়। এছাড়া ব্যাংক এশিয়া ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পরীক্ষামূলক ধাপ পার করে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সুবিধা কী? এই সেবার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ডিজিটাল ওয়ালেট।
-
কাগজপত্রহীন: গ্রাহককে ব্যাংকে যেতে হয় না, কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হয় না।
-
জামানতবিহীন: কোনো জামানত বা জামিনদারের প্রয়োজন নেই।
-
তাৎক্ষণিক: অ্যাপে আবেদনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
-
স্বয়ংক্রিয় পরিশোধ: ঋণের কিস্তি অটোমেটিক বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়।
সিটি ব্যাংক ও বিকাশের সাফল্য বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে সিটি ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার টাকা।
-
পরিসংখ্যান: সেবা চালুর মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৯ লাখের বেশি গ্রাহক ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন।
-
লেনদেন: এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৭ লাখের বেশিবার এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, “প্রয়োজনের সময় সরাসরি মুঠোফোনে ঋণ পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে সুসংহত করছে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।”
অন্যান্য ব্যাংকের চিত্র
-
ঢাকা ব্যাংক: তাদের অ্যাপ ‘ঢাকা ব্যাংক গো প্লাস’ ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া যাচ্ছে। সুদের হার মাত্র ৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার গ্রাহক প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।
-
প্রাইম ব্যাংক: তৈরি পোশাক কর্মীদের জন্য চালু করেছে ‘প্রাইম অগ্রিম’ সেবা। এর মাধ্যমে কর্মীদের বেতনের একটি অংশ আগাম দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার বার লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ব্যাংকটি চলতি বছরে ডিজিটাল ডিভাইস ফাইন্যান্সিং ও মোবাইল কেনার ঋণ চালুর পরিকল্পনা করছে।
-
ব্র্যাক ব্যাংক: যাদের বেতন ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে হয়, তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার গ্রাহক এই সেবা নিয়েছেন। শুরুতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন জানিয়েছেন, তারা এমএফএস ও মোবাইল অপারেটরদের ডেটা ব্যবহার করে খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করতে যাচ্ছেন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকও বড় পরিসরে এই সেবা আনার কাজ করছে।