পোশাক খাতে অশনি সংকেত: চীন ও ভারতের দাপটে বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রপ্তানি খাতে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে। টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে দেশের রপ্তানি আয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪.২৫ শতাংশ কমেছে।

গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) ইপিবি এই হতাশার চিত্র প্রকাশ করে।

ধসের পরিসংখ্যান ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার। অথচ আগের বছর (২০২৪) একই মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এক মাসেই আয় কমেছে বিপুল পরিমাণ। এর আগের মাস নভেম্বরেও রপ্তানি কমেছিল ৫.৫৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট রপ্তানি আয় ২.১৯ শতাংশ কমে ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

কেন এই পতন? অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা এই পতনের পেছনে প্রধানত দুটি কারণকে দায়ী করছেন: ১. যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা হ্রাস: বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের চাহিদা দুর্বল থাকায় নতুন অর্ডার আসছে না। ২. তীব্র প্রতিযোগিতা: ইউরোপের প্রচলিত বাজারগুলোতে চীন ও ভারত আগ্রাসীভাবে বাজার দখল করছে। তাদের কম দামে পণ্য সরবরাহের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বাংলাদেশ।

পোশাক খাতে বিপর্যয় বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ডিসেম্বরে এই খাতেই ১৪ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। কার্যাদেশ বা অর্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপদে পড়েছে ছোট ও মাঝারি (এসএমই) কারখানাগুলো। মালিকরা বলছেন, অর্ডারের অভাবে তাদের মুনাফার মার্জিন তলানিতে ঠেকেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত