যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এই তালিকায় সাতটি দেশকে যুক্ত করার পর, গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাম নতুন করে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক ভিসায় (পর্যটক, শিক্ষার্থী বা কর্মী) যেতে চাইলে তাদের এই জামানত দিতে হতে পারে।
কত টাকা গুনতে হবে? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হবে। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
ভিসা বন্ড আসলে কী? ভিসা বন্ড হলো এক ধরণের আর্থিক নিশ্চয়তা বা সিকিউরিটি মানি। বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই জামানত নিচ্ছে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে যাবেন। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী (যেমন টুরিস্ট বা স্টুডেন্ট) যদি অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন (Overstay), তবে এই জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
প্রেক্ষাপট প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ও পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে যান। কিন্তু অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে সেখানে থেকে যান। এই ‘ওভারস্টে’ বা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থান ঠেকাতেই ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য এবং একসময় নিউজিল্যান্ডও এমন বন্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল, যদিও পরে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবার বেশ কঠোরভাবেই এই নীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।