সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। দাবি আদায় না হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে সারা দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। আজ বুধবার রাতে এই ঘোষণা আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নোটিশ ও ধর্মঘটের ডাক বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য একটি জরুরি নোটিশ জারি করেছে ব্যবসায়ী সমিতি। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
-
আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
-
সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখা হবে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? এর আগে আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ব্যবসায়ী নেতারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো: ১. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নতুন করে সমন্বয় করতে হবে। ২. প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্তৃক পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। ৩. পরিবেশক কমিশন সিলিন্ডার প্রতি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করতে হবে। ৪. খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিইআরসি গত ৪ জানুয়ারি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। জ্বালানি বিভাগ ও কোম্পানিগুলো আমদামি সমস্যা সমাধান না করে উল্টো অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে, এতে অনেকে ব্যবসা গোটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৈঠকের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা আজ রাত ১১টায় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, “আগামীকাল সকাল থেকে আমাদের কর্মসূচি (বিক্রি বন্ধ) শুরু হবে। তবে বেলা ৩টায় বিইআরসির সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবেই সিলিন্ডার বিক্রি আবার শুরু হবে। অন্যথায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।”
অর্থাৎ, আগামীকাল বিকেল ৩টার বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে দেশের লাখ লাখ গ্রাহকের রান্নার গ্যাসের ভবিষ্যৎ।