জীবিকার চিন্তায় পেরেশান? কোরআন-হাদিসের এই ১০টি আমলে বদলে যাবে জীবন!

ডেস্ক রিপোর্টঃ
সংগৃহীত ছবি:
সংগৃহীত ছবি:

পার্থিব জীবনে বেঁচে থাকার জন্য রিজিক বা জীবিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের পরও সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে, যা মানুষকে হতাশা এবং আল্লাহবিমুখতার দিকে ঠেলে দেয়। তবে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু বিশেষ আমল ও গুণের কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের রিজিকে অভাবনীয় বরকত ও প্রশান্তি বয়ে আনে। বিশিষ্ট আলেমা হাবিবা আক্তার তার প্রবন্ধে এমন ১০টি আমলের কথা তুলে ধরেছেন।

রিজিকে বরকত লাভের ১০টি কার্যকরী আমল:

১. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি: রিজিক বৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে তাকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ বের করে দেন এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করেন। (সূরা তালাক: ২-৩)।

২. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার: পাপ কাজ মানুষের রিজিক কমিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা তার কৃত পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। তাই নিয়মিত তওবা করলে আল্লাহ জীবনের সংকট ও অভাব দূর করে দেন এবং প্রচুর বৃষ্টি (কল্যাণ) বর্ষণ করেন।

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা: যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি হোক এবং মৃত্যুর পরেও সুনাম থাকুক, তার উচিত আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাদের খোঁজখবর নেওয়া ও বিপদে পাশে দাঁড়ানো রিজিক বাড়ায়। (বুখারি: ২০৬৭)।

৪. আল্লাহর রাস্তায় দান করা: দান করলে সম্পদ কমে না, বরং বাড়ে। আল্লাহ বলেন, তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার প্রতিদান দেবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা। (সূরা সাবা: ৩৯)।

৫. দুর্বল ও অসহায়কে সাহায্য করা: সমাজের এতিম, গরিব ও দুর্বল মানুষদের সাহায্য করলে আল্লাহ খুশি হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা রিজিক ও সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের উসিলায়।

৬. মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করা: দুনিয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে যখন কোনো বান্দা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, আল্লাহ তার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেন এবং অভাব দূর করে দেন। আর ইবাদতে গাফিলতি করলে হাত কর্মব্যস্ততায় ভরে যায় কিন্তু অভাব যায় না।

৭. কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়া আদায়: আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।’ (সূরা ইব্রাহিম: ৭)।

৮. বিয়ে করা: অনেকে অভাবের ভয়ে বিয়ে করতে চান না। অথচ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিয়ে করলে তিনি নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করে দেবেন। বিয়ে মানুষের জীবনে বরকত ও সচ্ছলতা নিয়ে আসে।

৯. হজ ও ওমরাহ পালন: ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করলে দারিদ্র্য ও পাপ দূর হয়ে যায়, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে। এটি পরীক্ষিত আমল।

১০. চেষ্টা ও পরিশ্রম করা: শুধু দোয়া করলেই হবে না, রিজিকের সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়তে হবে। নামাজের পর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ কোরআনে দেওয়া হয়েছে। নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যই সর্বোৎকৃষ্ট।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত