২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পথে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা—এমন আলোচনা ফুটবল অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। পরিসংখ্যানও সেই বিতর্ককে কিছুটা সমর্থন করছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রকাশিত ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠার আগে আর্জেন্টিনা শীর্ষ ১৫–এ থাকা কোনো দলের বিপক্ষে খেলেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ১৯তম স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে।
আর্জেন্টিনার এবারের প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া (২৮), অস্ট্রিয়া (২৪), জর্ডান (৬৩), কেপ ভার্দে (৬৭), মিসর (২৯) এবং সুইজারল্যান্ড (১৯)। এই ছয় দলের গড় ফিফা র্যাঙ্কিং দাঁড়ায় ৩৮, যা ১৯৯৪ সালে বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং পদ্ধতি চালুর পর সেমিফাইনালে ওঠা কোনো দলের জন্য সবচেয়ে কম।
১৯৯৪ সালের পর নতুন নজির
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৪ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠা ৩৬টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনাই প্রথম, যারা শেষ চারে ওঠার আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫–এর কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি।
অন্য সব সেমিফাইনালিস্টকে অন্তত একটি শীর্ষ ১৫ দলের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে।
অন্য দলগুলোর পথ কতটা কঠিন ছিল?
এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে ওঠার আগে খেলতে হয়েছে র্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে থাকা সেনেগাল এবং ৭ নম্বর মরক্কোর বিপক্ষে। অন্যদিকে স্পেনকে নকআউট পর্বে পর্তুগাল (৫) ও বেলজিয়ামকে (৯) মোকাবিলা করতে হয়েছে।
ইংল্যান্ডও তুলনামূলক সহজ সূচি পেয়েছে। তবে তারা গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া (১১) এবং শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর (১৪) বিপক্ষে খেলেছে। ফলে শীর্ষ ১৫–এর অন্তত দুটি দলের মুখোমুখি হয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
তবে যদি হিসাব শুধুমাত্র শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাহলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলই সেমিফাইনালের আগে শীর্ষ দশের কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেনি।
অতীতে সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে কঠিন যাত্রা
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সহজ পথ পাওয়া দলের তালিকায় রয়েছে ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড, ২০১০ সালের উরুগুয়ে এবং ২০০২ সালের তুরস্ক। এ দলগুলোও সেমিফাইনালে ওঠার আগে মাত্র একটি করে শীর্ষ ১৫ দলের বিপক্ষে খেলেছিল।
অন্যদিকে সবচেয়ে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের মরক্কো। সেমিফাইনালে ওঠার আগে তারা ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগাল—র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫–এর চারটি দলের মুখোমুখি হয়েছিল।
একইভাবে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়াকেও সেমিফাইনালের আগে চারটি শীর্ষ ১৫ দলের বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল।
এখন সামনে ইংল্যান্ড
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। ফলে শেষ চারে উঠতে সহজ পথ পেলেও শিরোপার পথে তাদের প্রথমবারের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের পরীক্ষায় নামতে হবে। দুই দলের এই লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
I prefer this respon