প্রিমিয়ার লিগের বহুল আলোচিত ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার দেখা যেতে পারে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের লড়াই।
ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের হয়ে খেলতে গিয়ে গত দুই মৌসুমে একাধিকবার মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছেন এই দুই ফুটবলার। সেই ইতিহাসের কারণে বিশ্বকাপের এই ম্যাচেও তাদের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটনের মতে, চলতি বিশ্বকাপে অনেক তারকা খেললেও হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের মতো ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর ধারণা, এই ম্যাচে সেই উত্তেজনা আবারও ফিরে আসতে পারে।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও একই মত প্রকাশ করে বলেন, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে আগে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ রয়েছে, যা ম্যাচটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।
পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষে কথা বলছে। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবার খেলেও এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে নরওয়ে। দুই ম্যাচে জয় এবং দুই ম্যাচে ড্র করেছে ইউরোপের দলটি।
যেভাবে শুরু হয়েছিল হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বন্দ্ব
দুই ফুটবলারের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের ম্যাচে। নাটকীয় ড্রয়ের পর মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ২০২৫ সালে আর্সেনালের বড় জয়ের ম্যাচে গোল উদযাপনকে কেন্দ্র করে আবারও মুখোমুখি হন তারা।
এরপর আরও কয়েকটি ম্যাচে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, শারীরিক সংঘর্ষের চেষ্টা এবং পারস্পরিক খোঁচাখুঁচি আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একে অপরকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করার ঘটনাও ঘটে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবার সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে। ফলে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে দলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও থাকবে সমর্থকদের বিশেষ নজরে।