জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ঘোষিত দলে জাতীয় দলে এখনো অভিষেক না হওয়া অর্পিতা বিশ্বাস জায়গা পেয়েছেন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নারী ফুটবলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আসরে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে।
এশিয়ান গেমসের দলে জাতীয় দলে ফিরেছেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার। তাঁর সঙ্গে দলে ফিরেছেন দুই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন ও নবীরণ খাতুন। সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলে থাকা সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, উমহেলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ এবার স্কোয়াডে জায়গা পাননি।
অন্যদিকে গত মে মাসে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়া অর্পিতা বিশ্বাস এবার এশিয়ান গেমসের দলে রয়েছেন।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল
গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী, মিলি আক্তার।
ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, সুরভী আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস, উন্নতি খাতুন, আইরিন খাতুন, নবীরণ খাতুন।
মিডফিল্ডার: মনিকা চাকমা, মৌমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া, মুনকি আক্তার।
ফরোয়ার্ড: তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণ চাকমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মোসাম্মত সুলতানা।
এশিয়ান গেমসের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ রাতে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখানে ৭ ও ১০ সেপ্টেম্বর গুয়াংঝু এফসির বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ও দলের সম্ভাবনা নিয়ে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কোচ পিটার বাটলার। পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বাস্তবসম্মত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
পিটার বাটলার বলেন, বাংলাদেশ এখনো পদক জয়ের মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাঁর মতে, দলের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় বাস্তববাদী থেকেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।
তবে চীনে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। তাঁর মতে, ভালো মানের দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমার। ফলে মূল প্রতিযোগিতার আগে চীনের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।