দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে সোমবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দলের সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের স্মারক। দিনটি দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকা পালন করেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অনেকে জীবন দিয়েছেন।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ যখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে দলটি দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী দেশসেবায় আগামী দিনেও ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই দলের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামই বিএনপির মূল পরিচয়। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা জানান।