মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চলতি আগস্টের শুরুতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং তেহরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’র বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সামরিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
কারা থাকছেন
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লুর বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তাঁর সঙ্গে থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা ইতোমধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছেন বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।
আলোচনায় যেসব বিষয়
বৈঠকে প্রথমত তিন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সামরিক ও ভূরাজনৈতিক developments নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এর মধ্যে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সামরিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বিষয় থাকতে পারে।
এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের রূপরেখাও বৈঠকে নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি জোটের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব।
এদিকে এই জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক এবং সরকার বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি দেখছে না।