ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেই নাটকীয় লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
২০১৪ সালের সেই ম্যাচে পুরো সময়জুড়েই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় লিওনেল মেসির দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা যখন জোরালো হচ্ছিল, তখন ১১৮তম মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে জয়সূচক গোল করেন ডি মারিয়া। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি সুইসরা।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে খেলছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর আরও একবার বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল।
৩৯ বছর বয়সেও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২১ গোল নিয়ে শীর্ষস্থানেও রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম এবং কখনো হাল ছাড়িনি।”
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডও ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠে মুরাত ইয়াকিনের দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বড় চমক দেখানোর আত্মবিশ্বাস রয়েছে সুইসদের শিবিরে।
যদিও সুইজারল্যান্ডের কোচ আর্জেন্টিনাকে ফেবারিট হিসেবে দেখছেন, তবু তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই হারানো সম্ভব।
এই ম্যাচের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, ২০১৪ সালের সেই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া মাত্র তিনজন ফুটবলার এবারও মাঠে নামবেন। তারা হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ।
ম্যাচের আগে গ্রানিত জাকা বলেন, “মেসির যুগে ফুটবল খেলতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। ২০১৪ সালে তাঁর বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং হেরেছিলাম। আমরা জানি তিনি কতটা ভয়ংকর। তবে শুধু মেসি নয়, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল।”