বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আগামীকাল শক্তিশালী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিসর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিতে দুই দলই মাঠে নামবে টানা কঠিন লড়াইয়ের ধকল নিয়ে। ফলে শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেসই হয়ে উঠতে পারে ফল নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে গিয়ে দুই দলকেই খেলতে হয়েছে অতিরিক্ত সময়। কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারাতে আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিট। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় মিসর।
কাগজে-কলমে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাই এগিয়ে। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণ ও মাঝমাঠে কিছু দুর্বলতা ফুটে ওঠে লিওনেল স্কালোনির দলের। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে মিসর।
ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরো বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন বিশ্রামের সময়। মাত্র চার দিন সময় পেয়েছে দল। অনেক খেলোয়াড়ের শরীরে ক্র্যাম্প রয়েছে। সামনে এমন একটি দল, যারা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী এবং আক্রমণেও কেপ ভার্দের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।”
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিওনেল মেসিও দলের ক্লান্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার না থাকার কথাও উল্লেখ করেন। সেই ম্যাচ বিশ্লেষণ করে মিসর নিজেদের কৌশল সাজাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের পারফরম্যান্সে রক্ষণে শৃঙ্খলা ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল স্পষ্ট ছিল। মোহাম্মদ সালাহ ও ওমার মারমুশের গতিনির্ভর আক্রমণ আবারও হতে পারে দলটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর লড়াই। চলতি বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৭ গোল করেছেন। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছেন সালাহ। ফিট থাকলে তিনিই হবেন মিসরের সবচেয়ে বড় ভরসা।
আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন।
তিনি বলেন, “এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে। আমরা ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছি। এখানে প্রতিটি দলই ভালো এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী।”
অভিজ্ঞতা ও তারকায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা। তবে শারীরিক শক্তি, সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ভরসায় চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে মিসর। তাই শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে ক্লান্তি, কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তাই নির্ধারণ করতে পারে শেষ পর্যন্ত কে উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে।