টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ১০ উপজেলা প্লাবিত, পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার জেলার ১০টি উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়কে পানি ওঠায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে জেলায় পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এবং টেকনাফে আটকা পড়েছেন শতাধিক যাত্রী।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ পৌরসভা ও সদর, সাবরাং, হ্নীলা এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তত ৮০০ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে। এছাড়া লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘর প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী জানান, ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ৪০০টি ঘরে পানি উঠেছে এবং শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

পাহাড়ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন ও পরিবারের এক শিশু আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাছিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার ও সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১০ জন নিহত হন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জন নিহত, ১০ জন আহত এবং ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬২৪টি আশ্রয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী তিন দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে নতুন করে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত