২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি বা মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জেগে উঠেছিলেন, তাঁরা কেউ মারা যাননি কিংবা ঘুমিয়ে পড়েননি। তাঁরা এখনো সতর্কভাবে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, কোনো বড় লড়াইয়ের আগে একটি বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং মহড়া চালানো হয়। তাঁর মতে, ২০২৪ সালকেও তেমন একটি প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখা উচিত।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগের মতো, যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমান সরকারও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ফ্যাসিবাদের পথে এগোতে দেবে না।
বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সহযোগিতা ও সমর্থন করা। কিন্তু সরকার অন্যায় করলে, নাগরিকের অধিকার হরণ করলে কিংবা ভুল পথে পরিচালিত হলে বিরোধী দলকে অবশ্যই তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হবে।
দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি দেশের অবস্থান বোঝার অন্যতম মাধ্যম হলো তার পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে তার নাগরিকদের আচরণ ও চরিত্রের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাস বারবার বিকৃত করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই পুরোপুরি এ চর্চা থেকে বের হতে পারেনি।
এ সময় নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।