সরকারের মতো জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে বিরোধী জোটকে সরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রলোভন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা লোভ দেখিয়ে জনগণের দেওয়া গণরায়ের দাবি থেকে তাদের সরানো যাবে না।

বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করত, তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হতো না। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করতেও তারা প্রস্তুত, তবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।

জামায়াত আমির আরও দাবি করেন, দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যা নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব ও সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক ইস্যুতেও সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। এর কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত