আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কমিটি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনা ও প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটিটি ১৪ জুলাই ২০২৬ গঠিত হয় এবং ২০ সেপ্টেম্বর এর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে কমিটির আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল কমিটির আলোচনায় অংশ নেয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার ক্ষেত্রে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে মত রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে সংসদে পাওয়া আসনের আনুপাতিক ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতে পারেন। তবে উচ্চকক্ষের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকবে না বলে জানান তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব বিষয়ে তাদের অবস্থান নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল, সেগুলো জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান সময় ও সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনযোগ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সংবিধানের বিভিন্ন বিধান সংশোধন করা যেতে পারে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে সংবিধানের বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিত করার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের পর বিরোধী দলগুলোও আলোচনায় অংশ নেবে বলে তিনি আশা করছেন। বিশেষ কমিটির আগের বৈঠকেও সংশোধনী প্রণয়নে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।