বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধান সংস্কার ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে শুধু সংশোধনের কথা বলা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজিত জাতীয় শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সেই গণরায় উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, একই সঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে একটির ফল মেনে অন্যটির ফল অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি সংবিধান পরিষদ গঠন করে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সংসদে এ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে রাজনৈতিক সমাধান রাজপথেই খুঁজতে হবে।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের কথা বলা পূর্বের অঙ্গীকার থেকে সরে আসার শামিল। জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আবারও আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই আন্দোলনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক শহীদ হলেও তাদের অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তিনি গণভোটের ফল বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সাম্প্রতিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দুর্বল মনে না করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।